সর্বশেষ আপডেট : ৫৮ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল, ঠাকুরগাঁওয়ে উচ্ছ্বাস

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

একসময় নাট্যমঞ্চে উঠতেন তিনি, করতেন অভিনয়। যুক্ত ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। ছাত্রজীবনে রাজনীতির উত্তাল স্রোতেও ছিলেন সক্রিয়। এরপর শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক, পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের মুখপাত্র এবং শেষে বিএনপির মহাসচিব।

রাজনীতির এসব বাঁক পেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন দাঁড়িয়ে আছেন আরও বড় এক অধ্যায়ের সামনে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা থাকলেও রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তিনিই যে নির্বাচিত হতে যাচ্ছে, তা একরকম নিশ্চিত।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন পাওয়ায় তার নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করেছেন। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের গল্প শুধু দলীয় পদ-পদবি কিংবা নির্বাচনি রাজনীতির গল্প নয়। এরসঙ্গে মিশে আছে সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চা, শিক্ষকতা এবং ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা।

ছাত্রজীবনেই তিনি নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। সেই সময়ের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তার ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে। পরে রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায়ও তার মধ্যে সংস্কৃতিমনস্কতার ছাপ থেকে যায়।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী ও একাধিকবারের সংসদ সদস্য। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি শৈশব-কৈশোর থেকেই সমাজ ও সংস্কৃতির নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান তিনি।

ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন মির্জা ফখরুল। সেখান থেকে অর্জন করেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।

ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

একদিকে নাট্যমঞ্চ, অন্যদিকে রাজনীতির উত্তাল রাজপথ-দুই ভিন্ন জগতের অভিজ্ঞতা নিয়ে গড়ে উঠতে থাকেন তরুণ মির্জা ফখরুল।

শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন মির্জা ফখরুল।

১৯৮৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ১৯৯০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও থেমে যাননি মির্জা ফখরুল। ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সেই সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি হারালেও জাতীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকা থেমে থাকেনি। ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর দলটির অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবে রাজপথ ও গণমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও দলকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রাম আর দলের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত ঠাকুরগাঁও বিএনপি ও এলাকাবাসী।

ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, মির্জা ফখরুলের মত ত্যাগী একজন নেতার যোগ্য স্থানে যাচ্ছেন। সত্যিই এটি আনন্দের খবর।

গড়েয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক নাজমুল হক বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের কারণে আমাদের কাছে মির্জা ফখরুল আজ বঙ্গভবনের পথে। ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করলেও তিনিই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি।

ঠাকুরগাঁও জেলার একজন সন্তানকে দেশের সর্বোচ্চ পদে দেখতে পারাকে বিশেষ অর্জন ও গর্বের বলে মনে করেন এই শিক্ষক।

ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপি সভাপতি শফিরুল ইসলাম শরিফ বলেন, তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও পথচলার পর আজ তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে। আমি মনে করি, মির্জা ফখরুলের হাত ধরেই নতুন বাংলাদেশের পথচলা সুদৃঢ় হবে এমনই প্রত্যাশা সকলের,বলেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, জেলার রাজনীতি থেকে মির্জা ফখরুলের উত্থান। দীর্ঘদিনের ত্যাগের পর তিনি তার প্রাপ্য সম্মানটুকু পাচ্ছেন। এজন্য ঠাকুরগাঁওবাসীসহ দেশবাসী অনেক খুশি। মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতির মনোনায়ন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পেলে দেশ ও মানুষের কল্যাণে আরও বেশি ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা ঠাকুরগাঁওবাসীর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: